কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয় ও দুর্বল লাগার কারণ
আমাদের অনেকের প্রশ্ন কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয় ও অ্যানিমিয়া দূর করার উপায় সম্পর্কে, শরীর দুর্বল লাগার বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা সম্পর্কে আজকে আপনাদের আমরা বিস্তারিত জানাবো। আশা করছি এ কারণগুলো জানলে আপনার প্রশ্নের উত্তর গুলো পেয়ে যাবেন এবং বলে দেয়া নিয়মগুলো-
কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয়
অনুসরণ করলে আপনার সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। আপনি জানলে অবাক হবেন হয়তো আমাদের বেশ কিছু শারীরিক অভ্যাসের কারণে ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে এবং কিছু ওষুধ সেবনের সাইড ইফেক্ট এর কারনেও দুর্বলতা অনুভূত হয়। আজকে এগুলোর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো ইনশাল্লাহ।
কোন কারণ ছাড়াই শরীর দুর্বল লাগে, কোন কাজে মন বসে না, এ কারণগুলো কেন হয়? সে সম্পর্কে আপনাদেরকে আজকে বিস্তারিতভাবে জানাবো। আশা করছি আজকের পয়েন্টগুলো থেকে আপনি এর ডিটেলস উত্তরগুলো পেয়ে যাবেন। উত্তরগুলো জানার পরে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার শরীরে এগুলো কেন ঘটছে।
কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয়
কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয় ও দুর্বল লাগার কারণ সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় যে সুস্থ শরীর আমাদের জন্য একটা বড় নিয়ামত। তাই জানা প্রয়োজন কোন ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয় এবং কি করলে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। সে সকল বিষয় জানা আমাদের সুস্থ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ শরীর দুর্বল-
লাগার কয়েকটি কারণ এর মধ্যে প্রথম কারণ (Anemia)। আমাদের রক্তের “Red Blood Cells”নামের এক ধরনের সেল থাকে, এদের মধ্যে Hemoglobin থাকে এরা এরা যেটা করে তা হল, এই যে আমরা যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছি অক্সিজেনটাকে ধরে নিয়ে Hemoglobin সারা শরীরে পৌঁছে দেয়, তারপর আমাদের শরীরের
-যে কোষ গুলো থাকে তারা এই অক্সিজেন গুলোকে ধরে নিয়ে খাদ্য তৈরি করে এবং ওদের যে নির্দিষ্ট কাজকর্ম আছে সেগুলো করে। মানে ওদের মূল শক্তির জায়গাটাই হচ্ছে এই অক্সিজেন, এখন আপনার শরীরে যদি “Red Blood Cells”অথবা Hemoglobin কম থাকে তখন আপনার অক্সিজেন পরিবহনটা ব্যাহত হবে।
তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার দুর্বল লাগবে,এখন আমি আরো কয়েকটি লক্ষণ বলবো যে লক্ষণগুলো পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন যে আসলে আপনার কি (Anemia) সমস্যা কিনা।(Anemia) সমস্যা হলে দুর্বলতা এবং ক্লান্তির সাথে Shortness of Breath হবে। মানে আপনি অনেক দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেবেন তবুও
আপনার মনে হবে যে এটা আসলে যথেষ্ট হচ্ছে না। তার কারণটা হচ্ছে আমি প্রথমে বললাম Red Blood Cells,Hemoglobin এই উপাদানগুলো ফুসফুস থেকে যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন Distribute করতে পারছে না। যার কারণে শরীর থেকে সিগনাল আসছে যে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে আরো অক্সিজেন দাও।
তো নাকের কাজ তো নাক করে যাচ্ছে, আর ফুসফুসের কাজ তো ফুসফুস করে যাচ্ছে, সে তখন দ্রুত শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু তবুও আসলে ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। এ কারণেই Shortness of Breath হয়,আর এর সাথে সাথে আপনার হার্টবিট Irregular অনেক সময় হার্টবিট দ্রুত হচ্ছে অনেক সময় Slow
হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে আরেকটা বড় লক্ষণ হচ্ছে আপনাকে দেখতে একটু হালকা হলুদ ভাব আপনার Skin এ ফুটে উঠবে, মানে কিছুটা জন্ডিসের রোগীর মত। মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, হাত পা ঠান্ডা, হয়ে আশা, এরকম মনে হতে পারে।
অ্যানিমিয়া কোন ভিটামিনের অভাবে হয়
অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন অ্যানিমিয়া কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?অ্যানিমিয়া বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খাওয়ার সাইট ইফেক্ট হিসেবেও হয়ে থাকে যেটা আপনি ধরেন এই মুহূর্তে যে ওষুধ খাচ্ছেন সে কারণেও হতে পারে।
এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেই এই এনিমিয়া আপনার ভালো হয়ে যাবে। আরেকটা কারণ হতে পারে জন্মগত কিছু রোগ থাকতে পারে। যে রোগের কারণে Folic Acid,Iron,Vitamin B12 এর ঘাটতি থাকলেও অ্যানিমিয়া হতে পারে।
অ্যানিমিয়া দূর করার উপায়
অ্যানিমিয়া দূর করার উপায় রয়েছে কয়েকটি, এখন আমি বেশ কয়েকটা খাবারের নাম বলছি যে খাবারগুলো খেলে আপনার Iron,Folic acid,Vitamin B12 এর ঘাটতি দূর হবে। যদি এ খাবারগুলো খেয়েও আপনার অ্যানিমিয়ার লক্ষণ দূর না হয়, সে ক্ষেত্রে আপনাকে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
অ্যানিমিয়া দূর করার উপায়
যে খাবার গুলোতে আয়রন, ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি ১২ প্রচুর পরিমাণে রয়েছেঃ
চিংড়ি মাছ
পালং শাক
Organ Meat,মুরগি,গরু,অথবা খাসির কলিজা,ফুসফুস ইত্যাদি।
ছোলা
মসুর ডাল
শিমের বিচি
সয়াবিন
এই খাবারগুলোতে অ্যানিমিয়া দূর করার উপাদান প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আপনার এই খাবারগুলো খাওয়ার পরেও যদি সমস্যাগুলো থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। হাত পা দুর্বল লাগার কারণ হাত-পা দুর্বল লাগার কারণ গুলোর মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কারণ বেশি দায়ীঃ
অ্যানিমিয়া।
Thyroid হরমোন বেশি Produced হওয়া।
ডিপ্রেশন।
Thyroid হরমোন Imbalance হওয়া।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
যে কারণে আপনার হাত-পা দুর্বল লাগতে পারে। কারণ গুলো হলো THYROID হরমোন Imbalance হওয়া আমাদের শরীরে এক ধরনের THYROID GLAND রয়েছে, এই THYROID GLAND থেকে Thyroid Hormone Produced হয় এই Thyroid Hormone অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তার মধ্যে একটা কাজ হচ্ছে Metabolism করা।
Metabolism মানে কি? ধরুন আমরা যে খাবার দাবার গুলো খাচ্ছি এই খাবারটাকে ভেঙে শক্তি এবং তাপে পরিণত করে যে প্রসেস ওইটাই হচ্ছে Metabolism.তো এই Thyroid Hormone খাবার ভেঙে শক্তি তৈরি করছে। যদি আপনার Thyroid Hormone কম তৈরি হয় তাহলে খাবার থেকে শক্তি তৈরি করার প্রসেস এ প্রসেস অবশ্যই কম হবে।
এবং আপনার শরীরের শক্তি কম তৈরি হবে যার কারণে আপনি দুর্বল অনুভব করবেন এটাই তো স্বাভাবিক তাই না? আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যাদের Thyroid Hormone বেশি Produced হয় মানে যাদের THYROID GLAND,Overactive তাদের ক্ষেত্রেও দুর্বলতার দেখা দিতে পারে। কিভাবে THYROID বেশি Produced হওয়া মানে Metabolism অনেক বেশি হওয়া।
তো Metabolism অনেক বেশি তৈরি করতে গিয়ে শরীরকে যে অনেক বেশি কাজ করতে হয়, এত কাজ করে শরীর আবার Exhausted হয়ে যায় সে ক্ষেত্রেও দুর্বল লাগতে পারে।তবে Thyroid Hormone বেশি তৈরি হওয়ার ফলে দুর্বল লাগার সম্ভাবনা খুবই কম। দুর্বল লাগার বেশি সম্ভাবনা হচ্ছে যদি আপনার শরীরে Thyroid Hormone কম তৈরি হয়।
মানে আপনার যদি Hypothyroidism থাকে এখন আমি আরো কয়েকটা লক্ষণ বলছি সেটা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার এই দুর্বলতা টা কি Hypothyroidism এর কারণে কি না, যাদের Hypothyroidism থাকে Cold Sensitivity বেশি থাকে মানে হচ্ছে একটা রুমের মধ্যে একজন মানুষ ঠান্ডা অনুভব করছেনা
-কিন্তু যাদের Hypothyroidism আছে সে ঠাণ্ডা অনুভব করছে। এছাড়াও স্কিন শুষ্ক হয়ে যেতে পারে,মোটা হয়ে যেতে পারে, আপনার মুখ ফুলে যেতে পারে, আপনি ভুলো মনের হয়ে যেতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি এখন একটা কাজ করলেন একটু পরে আর মনে করতে পারছেন না যে আপনি এই কাজটা করেছেন। তার সাথে ডিপ্রেশনে থাকতে পারে কারো
-ক্ষেত্রে দুর্বলতার সাথে আপনার এই লক্ষণগুলো যদি থাকে, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে আপনার এই Thyroid টাকে Fix করতে হবে। Thyroid এর Imbalance টা যদি আপনি Fix করে ফেলেন তাহলে আপনার দুর্বলতা টাও চলে যাবে। এর আরো কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের অভাব।
ঘুমের মধ্যে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হরমোন রিলিজ হয়ে থাকে, যাদেরকে গ্রোথ হরমোন বলা হয়। আর এই হরমোন গুলো আমাদের শরীরের কোষ গুলোকে রিপিয়ার করে এবং নতুন কোষ তৈরি করে। এগুলো আমাদের কেন দরকার আমরা যখন সারাদিন অনেক কাজ করি এতে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষয় হয়
-সে কোষ গুলো আবার ঘুমের মাধ্যমে আমরা পূরণ করি যেন পরের দিন আবার রেডি হতে পারি কাজ করার জন্য। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ ঘন্টা ঘুমানো উচিত, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এই ৭ ঘন্টা ঘুমানোর পরেও তার দুর্বল লাগছে। এটার কারণ হতে পারে তার ঘুম ঠিকই ৭ ঘন্টা হয়েছে কিন্তু তার ঘুমের কোয়ালিটি টা ভালো হয়নি।
প্রশ্ন আসতে পারে এটা কিভাবে হতে পারে? মনে করুন আপনার ঘুমানোর কথা ১০টায় কিন্তু আপনি ঘুমালেন রাত ৩ টায়। সে ক্ষেত্রে আপনার ঘুমের অর্ধেকটা অংশই পড়ে যাচ্ছে দিনের বেলায়, আর দিনের বেলা তো ঘুমানোর জন্য না, দিন হচ্ছে কাজ করার জন্য এটা একটা কারণ হতে পারে অনেকের আবার দিনের বেলা ঘুমানোর কারণে
-রাতে তার ঘুমটা ভালো হয় না। আবার অনেকের দেখা যায় রোগ বালাই অথবা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে ও তার ঘুম পাতলা রাতের বেলা ঘুমানোর সময় একটু পর পর জেগে ওঠেন, এইটার কারণেও তার ঘুমের কোয়ালিটি নষ্ট হতে পারে। আরো একটা কারণ হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথা বা Choronic Pain অনেকের দেখবেন যে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা
-গিরায় গিরায় ব্যথা বা কোমরে ব্যথা,ঘাড়ে ব্যথা অথবা হাড়ের কোথাও ব্যথা এই ব্যথাগুলো যখন দীর্ঘমেয়াদি হয় তখন তার দুর্বল লাগার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তাদের যেহেতু এরকম ব্যথা কন্টিনিউয়াসলি এরকম তাদের শরীরে তাদের ঘুম ভালো মতো হয় না। কারণ তারা ঘুমের সময় ব্যথা অনুভব করেন।
আর এই সমস্ত ব্যথাগুলো দেখা যায় যে রাতের বেলায় বেশি জাগ্রত হয়ে ওঠে। এ কারণেই তাদের প্রত্যেক রাতেই ঘুম খারাপ হয়, আর ঘুম যদি খারাপ হয় তাহলে তো তাদের দুর্বল লাগবেই। আরো একটা কারণ হচ্ছে যে যাদের এরকম দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থাকে তারা ব্যথা নাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন, আর অনেক ব্যথার ওষুধের সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে দুর্বল লাগা।
আরেকটা কারণ হচ্ছে দুর্বল লাগার কারণে এই ধরনের মানুষগুলোর ফিজিক্যাল এক্টিভিটি কমে যায়। আপনি বিষয়টা নিজেকে দিয়ে চিন্তা করে দেখুন কালকে যদি আপনার ঘাড়ে ব্যথা হয়, তাহলে আজকে আপনি চাইবেন যে ব্যথা যেন বেশি না লাগে সেজন্য যতটুকু সম্ভব কম নড়াচড়া করতে।
আর যাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা তারা এইটা প্র্যাকটিস করতে করতে একটা সময় এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় যে যতটা পারা যায় কম নড়াচড়া করতে চেষ্টা করে। আর এই ফিজিক্যাল এক্টিভিটি যদি কম হয় সে ক্ষেত্রেও দুর্বল লাগতে পারে। আর এই দীর্ঘমেয়াদী ব্যথাটাকে আপনাকে প্রথমে দূর করতে হবে আর এই ব্যথা দূর করার জন্য আপনি যদি,
প্রতিদিন ব্যথা নাশক ওষুধের উপর নির্ভরতা বাড়িয়ে থাকেন কিংবা খেতে থাকেন, তাহলে কিন্তু ওই ব্যথার জায়গাটা ভালো হবে না। আপনাকেই ব্যথার কারণটা খুঁজে বের করতে হবে যেই কারণে আপনার ব্যথাটা হচ্ছে যেই রোগের কারণে কিংবা কোন জায়গা ভেঙে গিয়ে থাকলে অথবা যে কোনো কারণে ব্যথা হলে,
সেই রোগের চিকিৎসাটাই করতে হবে, যেন আপনাকে প্রতিদিন এই ব্যথার ওষুধ না খেতে হয়। আরো কারণ হচ্ছে ডিপ্রেশন এই ডিক্টেশন কিন্তু একটা খুব খারাপ ব্যাপার আর এই ডিপ্রেশন টাকে কিন্তু আমরা আমাদের এই কালচারে গুরুত্ব দেই না। আর এই ডিপ্রেশনের ব্যাপারটা হচ্ছে এরকম যে আপনি খুব হতাশ
আপনার কিছু করতে ইচ্ছে করে না,কোন কাজের মোটিভেশন নেই,সারাক্ষণ মনে হয় আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না,বা আপনার জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষার ইচ্ছা, ভরসা সবকিছু ফুরিয়ে গেছে এরকম একটা অনুভূতি এটা হচ্ছে ডিপ্রেশনের একটা উদাহরণ বললাম। এরকম লাগতে পারে কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন Sychiatrist এর কাছে গেলে
তিনি চেক করে বের করতে পারবেনযে আপনি কি আসলেই ডিপ্রেশনে ভুগছেন কিনা। ডিপ্রেশনে থাকলে আমাদের Neurotransmitters এলোমেলো হয় যার ফলে এখান থেকেও আমাদের দুর্বল লাগতে পারে। আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করা যায় যারা এরকম হতাশাগ্রস্ত হয় তাদের ঘুম ভালো মতো হচ্ছেনা।
তারা ঘুমাতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ দেখা যায় অনেক বেশি পরিমাণে ঘুমাচ্ছে এ দুইটার একটাও আপনার শরীরের জন্য মোটেও ভালো না।
ব্যায়াম করার উপকারিতা
ডিপ্রেশন দূর করতে ব্যায়ামের করার গুরুত্ব অনেক রয়েছে যেমন ব্যায়াম করার উপকারিতা মধ্যে প্রধান উপকারিতা হলো আপনার শরীর দুর্বল লাগার সমস্যা সহ অন্যান্য সমস শারীরিক সমস্যা দূর করার জন্য ব্যায়াম করার উপকারিতা অনেক।
ব্যায়াম করার উপকারিতা
Endorphin Hormone Releases করে।
আমাদের Stress কমাতে সাহায্য করে
ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
আমাদের Muscles গুলোকে উজ্জীবিত করে এবং শক্তিশালী করে।
ঘুমের কোয়ালিটি খুব ভালো হয়।
কাজে মনোযোগ বাড়ে।
পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে।
আপনি যদি শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করে থাকেন, তাহলে আপনাকে খুব একটা বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করার দরকার নাই। আপনি কিছু নিয়ম মেনে কিছু সাধারণ ব্যায়ামগুলো করলে আশা রাখতে পারেন আপনার
-শারীরিক এবং মানসিক দুর্বলতা কমে যাবে। প্রতিদিন আধা ঘন্টা ব্যায়াম করলেই যথেষ্ট সপ্তাহে পাঁচ দিন করলেও হবে। এটা আপনি জিমে গিয়ে করতে পারেন, জিমে যদি যাওয়ার সুযোগ না থাকে সেক্ষেত্রে আপনি বাইরে গিয়ে দৌড়াতে পারেন। অথবা বাহিরে যাওয়ার সুযোগও যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি ঘরের মধ্যেই
-এক রুম থেকে আরেক রুম নিয়মিত আধা ঘন্টা দৌড়াতে পারেন। যদি সেটাও করার সুযোগ না থাকে তবে আপনি একটা জায়গাতে দাঁড়িয়েই উঠবস করতে পারেন। এটা করার জন্য প্রথমে আপনি টানা আধা ঘন্টা করলে আপনার শরীরে অনেক ব্যথা হতে পারে, পরের দিন হয়তো আপনার হাঁটাচলা ফেরা
করতে অনেক কষ্ট হতে পারে। সেজন্য ভালোভাবে আপনাকে Warmup করে নিতে হবে। অথবা আপনি প্রথম দিকে দশ মিনিট করে শুরু করতে পারেন, প্রথম দিন ১০ মিনিট, পরের দিন ১৫মিনিট তারপরের দিন ২০ মিনিট ,এরকম করে চালিয়ে যেতে পারেন।আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যদি আপনার
-শরীরে অন্য কোন রোগ বালাই না থেকে থাকে, তাহলে এভাবে এক সপ্তাহ রেগুলার ব্যায়াম করার পরে আপনার শরীরে অটোমেটিক শক্তি চলে আসবে।এটার বেশ কিছু কারণ আছে কারণ ব্যায়াম করা মানে যে শুধু আপনি Fhysical activity বা আপনার Muscles এর Exercise হচ্ছে এইটা না। এটার সাথে আরও উপকারী বিষয় জড়িত।
Connected যেরকম হচ্ছে ব্যায়াম করার সময় Central Nervous System এক ধরনের Endorphin Hormone Releases করে। এই Endorphin Hormon এর আরেক নাম হচ্ছে Feel-Good Hormone মানে এই Hormone আমাদের মনে সুখের অনুভূতি দেয়। এছাড়া আমাদের Stress কমাতে সাহায্য করে, ব্যথা
কমাতে সাহায্য করে, তাছাড়া আমাদের Muscles গুলোকে উজ্জীবিত করে এবং শক্তিশালী করে। আর দ্বিতীয় নাম্বার উপকারটা হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যায়াম করার কারণে আপনার ঘুমের কোয়ালিটি টা খুব ভালো হবে। এটার মানে হচ্ছে আপনি ঘুমাবেন ঠিকই ৭ ঘন্টা আগে ঘুম থেকে ওঠার পরে যেরকম ফ্রেশ
-অনুভব করতেন এখন ব্যায়াম করার কারণে তার থেকে আরও বেশি ফ্রেশ অনুভব করবেন। বা আরো বেশি Energized অনুভব করবেন এবং তৃতীয় যে উপকারটা আপনি পাবেন আপনার কাজকর্মে মনোযোগ অনেকটাই বেড়ে যাবে। আপনি যদি একজন কর্মরত ব্যক্তি হন সে ক্ষেত্রে আপনার কাজে
-মনোযোগ বাড়বে এবং আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হন সে ক্ষেত্রে আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়ে যাবে। দুর্বলতার আরো ছোটখাটো বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যেগুলোর বেশির ভাগই হচ্ছে ঘুমের সাথে সম্পৃক্ত। আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে চা কফি খান ওই মুহূর্তে আপনার চাঙ্গা লাগতে
পারে, কিন্তু এই চা-কফি খাওয়ার কারণে রাতে আপনার ঘুমের কোয়ালিটি নষ্ট হতে পারে। মানে আপনার যতটুকু ঘুম ভালো হওয়ার কথা ছিল ততটুকু ঘুম ভালো হবে না। আপনি সারারাত ঘুমালেন ঠিকই সাত ঘন্টা আট ঘন্টা পার হয়ে গেল দেখা যাচ্ছে পরের দিন আপনি দুর্বল অনুভব করছেন।
এছাড়াও যারা শিফটওয়ার্ক করে থাকেন, যে রকম অনেক সময় রাতে ডিউটি করতে হয়, আবার পরের সপ্তাহে দেখা যায় যে তারা দিনের বেলায় ডিউটি করছে। তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের রেগুলারেটি সেভাবে থাকেনা অনেকের ক্ষেত্রে সেটা অভ্যাস হয়ে যায়,তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হয় না। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই এটা একটা কারণ
-হতে পারে দুর্বল লাগার। এছাড়া কিছু ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কারণেও দুর্বল লাগতে পারে, প্রতিনিয়ত যারা ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খাচ্ছেন অথবা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন, আমার আপনার হার্টের সমস্যার জন্য আপনাকে দুর্বল লাগতে পারে এবং সেটা ইমারজেন্সি কন্ডিশন হয়ে যেতে পারে। তো আমি
-এখন কিছু লক্ষণ বলবো সেই লক্ষণ গুলো যদি আপনার শরীরে থাকে তাহলে খুব জরুরী ভিত্তিতে একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। চোখে ঝাপসা দেখা বা উল্টাপাল্টা দেখা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া,বুকে ব্যথা, প্রচন্ড মাথা ব্যথা,শরীরের একপাশ অবশ হয়ে
-আসা,এবং কনফিউশনে থাকা।এগুলো যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলেই অবশ্যই একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
শরীর দুর্বল লাগা সম্পর্কে ডঃ সাব্বির রহমানের ভিডিওটি দেখুন
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে আপনারা আপনাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর গুলো জানতে পেরেছেন? আরও কিছু জানার প্রয়োজন হলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটের নিয়মিত এরকম তথ্যবহুল আর্টিকেল প্রকাশিত হয়ে থাকে। নিয়মিত ভিজিট করার অনুরোধ রইলো এবং পরিচিতজনদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।